জঙ্গিবাদ, রাজনৈতিক ইসলাম ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ
1 min read

জঙ্গিবাদ, রাজনৈতিক ইসলাম ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ

সন্ত্রাসবাদের সমার্থক জঙ্গিবাদ। কিন্তু বর্তমান সমসাময়িক সময়ে এসে জঙ্গিবাদের অর্থ বলতে ইসলামী চরমপন্থা/সন্ত্রাসবাদকেই বোঝায়। এটি রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য এক ধরনের চ্যালেঞ্জ।

কিন্তু ইসলাম কি জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ কিংবা চরমপন্থার মতো তৎপরতাগুলোকে সমর্থন করে? না, সমর্থন করে না।

কিন্তু এরপরও শুধুমাত্র ইসলামের নামে রাজনীতি, খেলাফত প্রতিষ্ঠা ও শরিয়াহ আইনের মতো বিষয়গুলোকে ধর্মের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে কিছু গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মুসলমানদের বিপদগামী করছে।

বিগত এক দশক বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের মতো বিষয়গুলো বেশ নিয়ন্ত্রিত ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় থেকে নতুন করে আলোচনায় আসে এ বিষয়গুলো। যদিও সরকারের তরফ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে জঙ্গি রয়েছে, তবে সরকার তা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে। (সূত্র: বিবিসি, ৩০ এপ্রিল ২০২৬)

বাংলাদেশে সর্বশেষ ২০১৬ সালে ঢাকার গুলশানে হোলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত জঙ্গিদের ছবি প্রকাশ করেছিল আইএস। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে জেএমবি, জাগ্রত মুসলিম জনতা, হুজি-বি ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের মতো উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো ছিল বেশ সক্রিয়।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বেশ ভিন্ন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্রক্ষমতায়। এবং দলটির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামেও জঙ্গিবাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। একই সঙ্গে জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ বিভিন্ন অপরাধকর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয় উঠে আসে বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনে। এবং তাকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জঙ্গি হামলার উচ্চপর্যায়ের নির্দেশদাতা হিসেবে অভিহিত করা হয়, যা বেশ স্পর্শকাতর।

একই সঙ্গে গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন নিয়ে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। যে দলটির বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধ, খুন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো অভিযোগ বেশ পুরোনো। এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠার বিষয়ে এ রাজনৈতিক দলটির বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের অভিযোগও বেশ পুরোনো।

এমন বাস্তবতায় ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতের বাংলাদেশকে তালেবানি রাষ্ট্রের আদলে দেখতে চাওয়ার যে প্রবণতা, সেখানে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা কোন পথে এগোবে, এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন এবং রাষ্ট্রের জন্যও একটি চ্যালেঞ্জ।

ধর্মের নামে নির্বিচারে মানুষ হত্যা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো, দেশের আইনশৃঙ্খলাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা এবং জঙ্গিবাদের নামে রাজনৈতিক ইসলামের বাস্তবায়ন ঘটানোর প্রক্রিয়ায় দেশের শান্তি ও উন্নতি বিঘ্নিত করতে চাওয়া—এসবের মাধ্যমে তারা মূলত ইসলামের অপপ্রয়োগই করছে।

পবিত্র কোরআনে আছে, “যে ব্যক্তি নরহত্যা অথবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ করার কারণ ব্যতীত কাউকে হত্যা করল, সে যেন গোটা মানবজাতিকে হত্যা করল।”

(সূরা আল-মায়িদা: ৩২)

একই সঙ্গে ভিন্ন মত, ভিন্ন ধর্ম কিংবা ধর্মনিরপেক্ষ, সংশয়বাদী—এমন সব গোষ্ঠীর মানুষদের হত্যা কখনো প্রকৃত মুসলমানের কাজ হতে পারে না। এরা মূলত সন্ত্রাসী ও জঙ্গি। রাষ্ট্রের অবশ্যই এদের প্রতি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এদের নিষিদ্ধ করা উচিত।

বাংলাদেশে সমকামী অধিকারকর্মী, বাউল সাধক, শিয়া সম্প্রদায়, হিন্দু পুরোহিতসহ সকল বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী মানুষ নিজ নিজ স্বাধীনতা উপভোগ করবে—এটিই একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য। জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের মাধ্যমে ইসলামকে চাপিয়ে দিয়ে খেলাফত প্রতিষ্ঠা কখনোই ইসলাম হতে পারে না। রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম হতে পারে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *